January 27, 2022, 11:17 am

শিরোনাম :
নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র পেলেন ৩৪ হাজার ৭৩ জন শিক্ষক মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও গণঅভ্যুত্থান ঈদগাঁওতে ২৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ আটক-২ জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬
Uncategorized
গণতন্ত্রহীনতার এক মহা অশুভ সঙ্কেত

গণতন্ত্রহীনতার এক মহা অশুভ সঙ্কেত

ভোটারহীন সিটি করপোরেশন নির্বাচন

গণতন্ত্রহীনতার এক মহা অশুভ সঙ্কেত

অনেকটা নীরবে নিভৃতে অনাগ্রহ আর নিরুত্তাপ পরিবেশে হয়ে গেল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন। নগরীর অনেক ভোটার জানেন না সিটিতে এ কিসের নির্বাচন। ভোট শুরু হয় সকাল ১০টায়। কিন্তু বেলা গড়ালেও ভোটারের দেখা নেই। ভোটকেন্দ্রের চার পাশে আওয়ামী লীগের ব্যাজধারী নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। সর্বত্র চলেছে এক বিরাট শূন্যতা। একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনের মতে, ঢাকা উত্তর সিটির সবখানে নির্বাচনের সময় বিরাজ করছিল এক শূন্যতা। ভোটকেন্দ্রশূন্য, শূন্য ব্যালট বাক্স, নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চোখে-মুখে বিদ্যমান ছিল অন্য ধরনের এক শূন্যতা। যেন কী না পাওয়ার শূন্যতা। কারণ, তারা ভোটকেন্দ্রে ভোটার পাননি। বেশির ভাগ জাতীয় দৈনিকে ভোটারশূন্য ভোটকেন্দ্রের ছবি ছাপা হতে দেখা গেছে।
একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ভোটারের জন্য দিনভর অপেক্ষা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়Ñ ‘ত্রিশ লাখেরও বেশি ভোটারের নির্বাচন। এক হাজার ২৯৫টি ভোটকেন্দ্রে কোনো আয়োজনের কমতি নেই। যথারীতি সকালে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। কিন্তু ভোটারদের সাড়া নেই কোথাও। কোনো কেন্দ্রে ভোটার আছেন এক থেকে দু’জন। কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদেরও তেমন ভিড় নেই।
প্রশ্ন হচ্ছেÑ কোথায় গেলেন ভোটাররা? কেন এ নির্বাচনকে একদম আমলে নেননি ভোটাররা। আসলে বাংলাদেশের মানুষের একটি পরিচয় ছিল নির্বাচনপ্রেমী জনগোষ্ঠী হিসেবে। তাহলে কেন মানুষ আজ নির্বাচনবিমুখ হয়ে পড়ল, সে প্রশ্নও একই সাথে আসে। কথা ছিল জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করবে। সে আগ্রহ কেন দেখা গেল না? এ ধরনের নির্বাচনে একটি অভিযোগ নিয়েও কেউ নির্বাচন কমিশনে যায়নি কেন। আওয়ামী লীগ বলেছে : উপনির্বাচন হওয়ায় এ নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কম ছিল। কিন্তু ভোটারদের এই অনাগ্রহ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে ভোটারদের তাতে কোনো আগ্রহ থাকে না। এ নির্বাচন ছিল অপূর্ণাঙ্গ, অংশগ্রহণমূলকও ছিল না। এ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ যে ছিল না, তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট বোঝা যায়। তিনি বলেছেন, ভোটার না আসার দায় ইসির নয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আনতে পারব না। কেন ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটারহীন, তার কোনো জবাব নেই তার কাছে। এ ধরনের ভোটারহীন নির্বাচনেও সরকারি দলের নেতারা খুশি বলেই মনে হয়। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এ ধরনের নির্বাচনে তাদের প্রার্থীদের বিজয় আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। সে জন্যই এ নির্বাচনের পরেও তাদের মুখে বলতে শোনা যায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ তাদের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছে। সরকারবিরোধীদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
কিন্তু ভোটারদের অনাগ্রহ ও প্রার্থীদের অংশগ্রহণহীনতার যে অপসংস্কৃতি বাংলাদেশে বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা প্রায় প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে, তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক অশুভ সঙ্কেত বহন করে। গত পরশু অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন এই সঙ্কেতই দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছে। এই নির্বাচন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন এটাই প্রমাণ করেÑ দেশবাসী দেশে বিদ্যমান নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বিগত জাতীয় নির্বাচনে রাতেই ব্যালট বাক্স ব্যালটভর্তি করে রাখার যে অপসংস্কৃতির সূচনা করে, সে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বর্ণনা করে কার্যত নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনব্যবস্থা ও সর্বোপরি ক্ষমতাসীনদের ওপর নির্বাচন প্রশ্নে আস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তারই সামান্য প্রতিফলন আমরা প্রত্যক্ষ করলাম গত পরশুর মেয়র নির্বাচনে।
আজকের যে অবস্থা এটা যে আওয়ামী লীগের জন্য সুখকর নয়, সে উপলব্ধিও কিছু আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে এসেছে বলে মনে হয়। সে জন্যই হয়তো সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘আজকে সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের বাইরে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।’ পঁচাত্তরের আগেও সবাই বাকশাল হয়ে গিয়েছিল। তখনো অন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না। সবাইকে আওয়ামী লীগ বানালে চলবে না, এটি আওয়ামী লীগের জন্য ভালো নয়। ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এ উপলব্ধি যত তাড়াতাড়ি আসবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল বলে আমরা মনে করি।
গণতন্ত্রের পথ এটি নয়। আজকের অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য এক মহা অশুভ সঙ্কেত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ গোটা জাতির স্বার্থেই দ্রুত হওয়া উচিত। দেশবাসী আর একটি নির্বাচনও সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো ভোটারহীন ও অংশগ্রহণহীনতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হোক তা চায় না। আজকের যে ভোটচিত্র তা প্রকৃত নয়, তা কৃত্রিম সে উপলব্ধি ক্ষমতাসীনদের মধ্যে থাকা উচিত।এ প্রভাব উপজেলা নির্বাচনে পড়তে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com