ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার ওপর সেতুমন্ত্রীর অনেক ক্ষোভ। কারণ তিনি আমার নামে পদ্মাসেতু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি সেটা নাকচ করে দিয়েছি।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের খননকাজ উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম ২০০১ সালে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আবার আমরা উদ্যোগ নেই পদ্মাসেতু নির্মাণের। তখন সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তবে হঠাৎ মাঝামাঝি সময়ে এসে তারা অভিযোগ আনলো এখানে দুর্নীতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ সময় চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম কোথায় দুর্নীতি হয়ে তা দেখাতে হবে, দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কানাডার আদালতেও মামলা হয়েছে। পরে আদালত বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা, ভূয়া। এরপর আমার নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, সেই পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান।

সরকার প্রধান বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে যখন এত কিছু হয়ে গেছে, তখন সেটা পদ্মাসেতুর নামেই থাকবে। এটার সঙ্গে আর কোনো নাম যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজেই আমার মন্ত্রীকে বলবো রাগ ক্ষোভ করার কিছু নেই। আমি কোনো নাম চাই না, কিছুই চাই না। কারণ আমি সব হারিয়ে রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি।

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা স্মরণ করে বলেন, চট্টগ্রামের সন্তান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উপর টানেল নির্মাণের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। তার দাবি ছিলো, কর্ণফুলী নদীর উপর ঘন ঘন ব্রিজ নির্মাণ হলে নদীর ক্ষতি হবে । তার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ছিলো। তিনি আজ বেঁচে থাকলে টানেলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন দেখে অনেক খুশি হতেন।

এ সময় কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চীন সরকার কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ পরিকল্পনার শুরু থেকে সহায়তা করছে। বাংলাদেশকে শতভাগ ঋণ সহায়তা দিয়েছে। চীনের সহায়তায় আজকে আমরা এ বিরাট মহাযজ্ঞ করতে পারছি।