January 22, 2022, 3:13 am

শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬ লামার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে সাড়ে তিন হাজার কন্ঠে উচ্চারিত ‘ইনশাল্লাহ সব সম্ভব’ শত্রুতার আগুনে পুড়ে পুড়ল ৮ দোকান নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড় থেকে অস্ত্র-গুলিসহ ৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
দ্বীপজেলা ভোলার সদর হাসপাতালে পাচঁ বছরেও খবর নেই ৫’চিকিৎসকের

দ্বীপজেলা ভোলার সদর হাসপাতালে পাচঁ বছরেও খবর নেই ৫’চিকিৎসকের

এম এইচ ফাহাদ-ভোলা: চিকিৎসক সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দ্বীপজেলা ভোলার সরকারি চিকিৎসাসেবা। এ জেলার ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমানে নিয়োজিত মাত্র ৫৭ জন ডাক্তার। এর মধ্যে ঢাকা ও বরিশালে প্রেষণে আছেন দু’জন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রায় পাঁচ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত চার চিকিৎসক। আর শূন্য রয়েছে ১৫৪টি পদ।

যে চিকিৎসকরা বর্তমানে কর্মরত, তারাও হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট চেম্বারে বেশি সময় দিচ্ছেন। এতে সরকারি হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সিভিল সার্জন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই দশক আগে ভোলা সদর হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে বাস্তবে ৫০ শয্যা পরিচালনার মতো জনবলও নেই। এখানে চিকিৎসকের ২২টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত মাত্র আটজন। শূন্যপদ ১৪টি। এ ছাড়া জেলার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে দুটি, বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি পদের মধ্যে ১৬টি, দৌলতখানে ২১টির মধ্যে ১৫টি, লালমোহনে ২১টির মধ্যে ১৫টি, চরফ্যাসনে ২১টির মধ্যে ১০টি, তজুমদ্দিনে ১০টির মধ্যে চারটি, মনপুরায় ১০টির মধ্যে সাতটি, খায়েরহাটে ৯টির মধ্যে পাঁচটি, দক্ষিণ চরআইচা হাসপাতালে পাঁচটির মধ্যে তিনটি, সাতটি উপকেন্দ্রে চারটি, ৫৫টি ইউনিয়নে ৪১টি ও সিভিল সার্জন অফিসের তিনটির মধ্যে দুটি পদ শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসার জন্য ভোলাবাসির প্রধান ভরসার জায়গা জেলা সদর হাসপাতাল। তবে দীর্ঘদিনেও বাড়ানো হয়নি চিকিৎসক। উল্টো যারা কর্মরত, তাদের অর্ধেকও কর্মস্থলে থাকেন না। সদর হাসপাতালের ২২টি পদের মধ্যে সার্জারি, ইএনটি, রেডিওলজি ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদসহ ১৪টি পদে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্যও দরিদ্র রোগীরা রাজধানী অথবা বিভাগীয় শহরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তিন বছর কার্ডিওলজির চিকিৎসক নেই।

এদিকে গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি সদর হাসপাতালে দেখা যায়, সকাল ৮টায় চিকিৎসকদের আসার কথা থাকলেও দু-একজন ছাড়া বাকিরা এসেছেন ১০টার পর। ২৮ জানুয়ারি সোমবার মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. শাজাহান কবির একাই বহির্বিভাগে রোগী দেখেছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অনেকেই হতাশ হয়ে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যান। অন্য চিকিৎসকরা কেন উপস্থিত হননি- এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. আবদুল কাদের, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) ডা. ফায়জুল হক ও ডেন্টাল সার্জন ডা. শাহিন চৌধুরী হাসপাতালের বাইরে নিজেদের চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। আর সকালে কিছু সময় রোগী দেখলেও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. সুরাইয়া ইয়াসনুরকে দুপুর ১২টার পর হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের গাজিরচর থেকে শারমিন, মিলা ও হাজেরা বেগম চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন ডা. সুরাইয়া ইয়াসনুরের কাছে। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাকে না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় কথা হয় তাদের সঙ্গে। হাজেরা বেগম বলেন, তার গর্ভবতী বোনকে দেখাতে এসেছিলেন। হাসপাতালে ডাক্তার না পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। পরে প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা নেবেন।

সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মো. ফরিদের স্ত্রী বিলকিছ বেগম জানান, তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন বাইরে থেকে তাকে ড্রেসিং করিয়ে আনতে হয়। একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশু ফাহিম আগুনে পোড়া রোগী। তার চাচা জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাইরে প্রাইভেট ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন ফাহিমকে। শুধু নার্সদের পরামর্শ নিতেই ওকে হাসপাতালে রাখতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমস্যার শেষ নেই মেঘনাপাড়ের তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিছুদিন আগেও ধার করা চিকিৎসক দিয়ে চলছিল হাসপাতালটি। সম্প্রতি এখানে চারজন চিকিৎসক দেওয়া হলেও শূন্য পাঁচটি পদ। গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মিজানুর রহমানকে। মোবাইল ফোনে তিনি জানান, পরীক্ষার কারণে তিনি ছুটিতে আছেন। কত দিনের ছুটিতে আছেন- জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘সেটা জানার আপনার কি খুব বেশি দরকার? আপনার না জানলেও চলবে।’ বাকি তিনজন কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত মাত্র পাঁচজন। এর মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন ইউএইচএফপিও ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও মেডিকেল অফিসার ডা. আনিসুর রহমান। হাসপাতালের অফিস থেকে জানানো হয়, ২০ জানুয়ারি থেকে তারা ছুটিতে। এ ছাড়া ডেন্টাল সার্জন ডা. তামিম আহাম্মদ বর্তমানে সংসদ সচিবালয়ে প্রেষণে আছেন। মোবাইল ফোনে ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার মা অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটিতে। ডা. আনিসুর রহমানের ছুটি নিয়ে তিনি কোনো কারণ বলতে পারেননি।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র সাতজন। এর মধ্যে সহকারী সার্জন (আইএমও) ডা. মাহাফুজুর রহমান ও ডেন্টাল সার্জন ডা. খাদিজা নাজনীন ২০১৪ সাল থেকে অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন।

সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। তবে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন সংকটে এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এখানকার স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসকের ১০টি পদের মধ্যে পাঁচটিই শূন্য। যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

চরফ্যাসন প্রতিনিধি জানান, চরফ্যাসনেও চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়েনি। ৩৫টি চিকিৎসক পদ থাকলেও ২৯ জানুয়ারি এখানে মাত্র ছয়জনকে কর্মরত পাওয়া গেছে। এখানকার জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি) ডা. এএসএম তাজুল ইসলাম ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগদানের পরদিন থেকে রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত।

সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন,কমসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা কষ্টসাধ্য। তবুও যারা রয়েছেন তাদের দিয়ে রোগিদের সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। অতি দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com