January 23, 2022, 3:20 am

শিরোনাম :
নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র পেলেন ৩৪ হাজার ৭৩ জন শিক্ষক মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬ লামার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে সাড়ে তিন হাজার কন্ঠে উচ্চারিত ‘ইনশাল্লাহ সব সম্ভব’ শত্রুতার আগুনে পুড়ে পুড়ল ৮ দোকান
শীতবস্ত্র পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ- “স্যার তোমার কম্বলটা দিয়া জার পালাবে এবার”

শীতবস্ত্র পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ- “স্যার তোমার কম্বলটা দিয়া জার পালাবে এবার”

আসিফ জামান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : এবার তোমার কম্বলটা দিয়া জার (শীত) পালাবে এবার তোমার কম্বলটা দিয়া দিনলা পার হবে স্যার। হামার এইত্তি সব সময় আগত (আগে) জার (শীত) শুরু হয়।

হামার গ্রামোত তোমা ছাড়া কোনোদিন আর কাইয়োই কম্বল দেয় নাই। এ কম্বলকোনা গাত দিয়া কোনও রকম রাইত কাটমো এবার। হামা গরীব মাইনসলার। কেউই হামার কুনো খোঁজখবর নেয় না। তোমায় এবার খোঁজ করি জারের কম্বল দিয়া হামার উপকার কইল্লেন। স্যার, উপরওলায় তোমাহার ভাল করবে।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচাঁ বানিয়া পাড়া ইউনিয়নের কম্বল পেয়ে ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোনষী বেওয়া অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে এসব কথা বলেন।

উপজেলার একই ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মানষী বেওয়ার মতোই অনুভূতি জানালেন একই এলাকার মেনেকা রানী (৭৫), বিনোদিনী বালা (৮৫), আবেদল আলী (৬৫) ও বুধারাম রায় (৮০)।

তাদের মতো আসমা খাতুন বলেন,‘৬ সন্তান নিয়ে এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে থাকি। স্বামী নেই। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুবই কষ্টে থাকি। এক বেলা খেতে পারি তো আর এক বেলা খেতে পারি না। ডিসি স্যারের কম্বলটা খুবই উপকারে হবে। তাদের প্রতি আশীর্বাদ থাকলো।’

মঙ্গলবার (০৮ জানুয়ারি) রাতেও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরন করেন।

বেশ কয়েকদিন ধরেই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ডে. এম কামরুজ্জামান সেলিমের এমন শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা অন্য কোন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরন করা হলে একই মানুষ বারবার পেয়ে থাকে। এ কারনেই সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে রাতের বেলায় তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিক অসহায় ব্যক্তি নির্ধারন করে শীতবস্ত্র নিজের হাতে প্রদান করছেন।

বিতরণের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুর কুতুবুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীলাব্রত কর্মকার এবং এনডিসি মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসককে সহযোগিতা প্রদান করছেন।

এরই ধারবাহিকতায় গত রাতেও সদর উপজেলার খালপাড়া, ডাক্তার পাড়া, মাস্টার পাড়া ও নারগুনের কৃষ্ণপুর গ্রামে এবং রোড রেল স্টেশন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে ৫ শতাধিক কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষ শীতে কাবু হয়ে যায়। তাই শীত এখানো দূর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ফলে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তির বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারন করে শুধুমাত্র অসহায়দেরই শীতবস্ত্র প্রদান করছি। সমাজের বিত্তবানসহ স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অসহায় ও দুস্থ্যদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com