January 27, 2022, 11:05 am

শিরোনাম :
নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র পেলেন ৩৪ হাজার ৭৩ জন শিক্ষক মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও গণঅভ্যুত্থান ঈদগাঁওতে ২৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ আটক-২ জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬
Uncategorized
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা ও গৌরবের ইতিহাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা ও গৌরবের ইতিহাস

মোঃ শাহ্ নেওয়াজ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম। বৃটিশ পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তানি পরাধীনতায় প্রবেশের ১ বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে রেখেছিলেন দুই যুগ।

আজ ইতিহাসের সাধারণ পাঠক মাত্রই জানেন, বাংলা ও বাঙালির যা কিছু সোনালী অর্জন তার সবকিছুরই গর্বিত অংশীদার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। পৃথিবীর দেশে দেশে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস খুজলে দেখা যাবে সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নিয়েছে অনেক সংগঠন। অতঃপর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে সময়কে। ১৯৪৮ সালে সময়ের প্রয়োজনেই জন্ম নেয় ছাত্রলীগ। ইতিহাস সাক্ষ্য আছে, কারো তৈরি পথে কখনো হাঁটেনি ছাত্রলীগ। বরং পথ তৈরি করে নিয়েছে বার বার।

লড়াই সংগ্রামে ইতিহাসের অগ্নিগর্ভে জন্ম নিয়েছে ৫২, ‘৬২, ‘৬৯ এবং অবশেষে ‘৭১। বছরের পর বছর অসংখ্য সংগ্রামের আগুনে পুড়ে খাটি হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। ১৭ হাজার নেতা কর্মীর শাহাদাত বরণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের গৌরবে গরীয়ান আজকের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ গড়ার সংগ্রামে থাকার সুযোগ পেয়েছে এই সংগঠনের নেতা কর্মীরা। পুনর্গঠন, দারিদ্র দূরীকরণ ও নিরক্ষতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতির জনকের উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল সেদিন ছাত্রলীগ। ৭৫ এরপর দীর্ঘ ২১ বছর আবারো অন্ধকার অপশক্তির বিরুদ্ধে মরনপণ সংগ্রাম জারি রাখতে হয়েছে আমাদের প্রিয় সংগঠনকে। এই সময়কালে রাত শেষের সোনালী সূর্যোদয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে কত সহযোদ্ধা। প্রকাশ্য দিবালোকে গল্প রক্তে রাজপথ রঞ্চিত হয়েছে কত বার কত সাথীর। আমাদের পূর্ব প্রজন্মের সেই পবিত্র আত্মদানের কারণেই আমাদের প্রিয় সংগঠন আজো লড়াইয়ের ময়দানে। সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

১৯৯৬-২০০১ সময়কালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার অধিকার, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বন্যার্তদের জন্য স্বেচ্ছাশ্রম, বৃক্ষরোপনসহ দেশ গঠনমূলক কাযক্রমে আত্মনিয়োগ করেছিল। আজ এখনো ধ্বংস, মৃত্যু, রক্তপাত আর গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রামে রয়েছে সকলের প্রিয় সংগঠন।

ইতিহাসের অমোঘ নির্দেশেই যেন আজ আমরা লড়াই করছি ইতিহাসেরই শত্রুর বিরুদ্ধে। বাঙালি জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া এ যুদ্ধে জয়লাভের কোন বিকল্প নেই। গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ের জন্য চাই সুশৃঙ্খল, সুসংগঠতি ও চেতনায় উদ্দীপ্ত, সংগ্রামে সম্মুখবর্তী লড়াকু সংগঠন।

আমরা এই সময়ের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা একদিক থেকে সৌভাগ্যবান। আমাদের চলার পথে পাথেয় রূপে রয়েছে কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আদর্শিক প্রেরণা। জাতির জনকের ভাষায়, ‘‘নেতার মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু সংগঠন বেঁচে থাকলে আদর্শের মৃত্যু হতে পারে না’’।

আদর্শিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিক নেতৃত্বের অনন্য সম্পদের আমরা ঐশ্বর্যবান। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং শান্তির সংগ্রামে বীর সেনানী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার সাংগঠনিক নেতৃত্বে আমাদের পথচলার কঠিন সংগ্রামে যেন স্নেহের শীতল বারি। তারই সাংগঠনিক দিক নির্দেশনা এবং কাউন্সিলদের সমর্থিত এই গঠনতন্ত্র সাংগঠনিক নির্দেশিকা হিসেবে শক্তিশালী করবে বিশাল কর্মী বাহিনীর সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে। আসুন সত্য ও সুন্দরের নামে আরেকবার নিজেকে উৎসর্গ করার শপথে হাতে হাত ধরি।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com