January 27, 2022, 11:43 am

শিরোনাম :
নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র পেলেন ৩৪ হাজার ৭৩ জন শিক্ষক মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও গণঅভ্যুত্থান ঈদগাঁওতে ২৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ আটক-২ জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬
Uncategorized
সংগঠনের আড়ালে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যবসা দোকান মালিক সমিতির

সংগঠনের আড়ালে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যবসা দোকান মালিক সমিতির

আফসানা খানম সুমি-ঢাকা :

রাজধানীর চানখাঁরপুল থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দিকে যেতে চোখে পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ রোড সাইড মার্কেট। এ মার্কেটে একটি ডিসপেনসারির দোকান রয়েছে সেলিমের (ছদ্মনাম)। প্রায় ১৩০ বর্গমিটার আয়তনের এ দোকানে একটি ফ্রিজ, একটি ফ্যান ও তিনটি লাইট ব্যবহার করেন তিনি। এর বিপরীতে তাকে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (ডিপিডিসি) নয়, ওই টাকা জমা দিতে হচ্ছে দোকান মালিক সমিতি— সততা উন্নয়ন কমিটির হিসাবে। বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহূত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৩০ থেকে ৮ টাকা ৪০ পয়সা হলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৬ টাকা করে নিচ্ছে ওই সমিতি।
শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ রোড সাইড মার্কেটেই নয়; পাশের বঙ্গবাজার, ফুলবাড়ী, নীলক্ষেত বাকুশাহ মার্কেট, গাউসুল আজম সুপার মার্কেটসহ অধিকাংশ মার্কেটেই সংগঠনের নামে বিদ্যুতের ব্যবসা করছে সমিতিগুলো; যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল রোড সাইড মার্কেটে মোট ১৪৩টি দোকান রয়েছে। এ দোকানগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। এসব দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতে হলে সেখানে গড়ে ওঠা মালিক সমিতি— সততা উন্নয়ন কমিটির সদস্য হয়েই ব্যবসা করতে হয়। অন্যথায় ব্যবসা করার সুযোগ পাওয়া যায় না। যারা ব্যবসা করতে চান, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নিজেদের আখের গোছান সেখানে গড়ে ওঠা সমিতির নেতারা। শুধু বিদ্যুতের অতিরিক্ত ইউনিট মূল্যই নেয়া হয় না, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় বেনামি চার্জের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থও। সমিতির এ চাঁদাবাজিতে রীতিমতো অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, যদিও ব্যবসা হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না তাদের বিরুদ্ধে।
ঢাকা মেডিকেল রোড সাইড মার্কেটে দোকান রয়েছে— এমন এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের নিরুপায় হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে ব্যবসা ছেড়ে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
ওই সমিতির সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর বিন আজিজ ওরফে তামিম। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। এর আগে কমিটি যেভাবে নিয়েছে, আমরাও সেভাবেই নিচ্ছি। তবে এখন কিছুটা কমিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল রোড সাইডের ১৪৩টি দোকান থেকে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ সংগ্রহ করা হয় ৭ লাখ টাকার মতো। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছে জমা দেয়া হয় ৩ লাখ টাকারও কম। বাকি টাকা যায় সমিতির নেতাদের পকেটে।
অন্যদিকে গাউসিয়া মার্কেটে মোট সাড়ে ৪০০ দোকানের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করা হয় ১৪-১৫ লাখ টাকা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া হয় ৯-১০ লাখ টাকা। এখানেও বাকি ৫-৭ লাখ টাকা সমিতির নেতাকর্মীরা ভাগাভাগি করে নেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের দ্বিগুণ দাম নেয়ার পরও রক্ষণাবেক্ষণ ও গার্ড বিল বাবদ ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।
সরকারি রেটের বাইরে অতিরিক্ত বিল নেয়া হয় বলে স্বীকার করে গাউসুল আজম সুপার মার্কেট প্রা. লিমিটেডের সভাপতি মো. মোতালেব মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ঢাকার সব মার্কেটে একই হারে বিদ্যুৎ বিল নেয়া হয়। তবে নিজস্ব সাব-স্টেশনের কারণে আমাদের মার্কেটে বিল কিছুটা বেশি। এটা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি জানে।
জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীদের একটি মিটার থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে। আর ওই মিটারটি থাকে মার্কেটকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা সমিতির নিয়ন্ত্রণে। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় পৃথক সংযোগ ও মিটার ব্যবহার করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও সমিতির হস্তক্ষেপে বিতরণ কোম্পানি তাদের মিটার দেয় না, যদিও বহুতল আবাসিক ভবনে প্রতিটি ফ্ল্যাটের বিপরীতে আলাদা মিটার দিয়ে থাকে বিতরণ কোম্পানিগুলো। এভাবে বিতরণ কোম্পানির অসহযোগিতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ চুষে নিচ্ছেন সমিতির নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসন) ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাজ মো. জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের মার্কেটের প্রতিটি ইউনিটে মিটার দেয়ার বিধান নেই। তবে কোনো গ্রাহক যদি অভিযোগ করে বা পৃথক সংযোগ চায়, তবে আমরা সেটা ভেবে দেখব।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের মাধ্যমে সমিতিগুলোর ব্যবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, সমিতিগুলো ডিপিডিসিকে টাকা কম দিয়ে নিজেরা জমা করছে কিনা, সেটা আমি অবগত নই। তবে এটা সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সেবাকেন্দ্র তথা এসওসিএসের প্রধান নির্বাহী অবগত আছেন।
যোগাযোগ করা হলে রমনা এসওসিএসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসীন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল করে থাকি। ফলে প্রতিটি মিটারে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখায়, তার বিপরীতেই বিল হয়ে থাকে। রোড সাইড মার্কেট সমিতির বিপরীতে ২০ লাখ টাকার মতো বকেয়া রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু বিদ্যুতের দামই নয়, অস্তিত্ব নেই এমন নানা চার্জ আদায়ের মাধ্যমেও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, সব গ্রাহক শ্রেণীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ন্যূনতম চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ একীভূত করে ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণ করা হয়। বিইআরসির গত বছরের ২৩ নভেম্বরে ঘোষিত আদেশে বলা আছে, মধ্যম চাপে তথা ১১ কেভি লাইনে বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক ডিমান্ড চার্জ হবে ৫০ টাকা এবং উচ্চচাপ তথা ৩৩ কেভি লাইনে এমন গ্রাহকদের মাসিক ডিমান্ড চার্জ হবে ৪০ টাকা।
কিন্তু রাজধানীর এসব মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বিইআরসির এ আদেশ অমান্য করে এখনো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ নামে পৃথকভাবে টাকা আদায় করছে সমিতিগুলো।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com