January 22, 2022, 1:34 am

শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬ লামার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে সাড়ে তিন হাজার কন্ঠে উচ্চারিত ‘ইনশাল্লাহ সব সম্ভব’ শত্রুতার আগুনে পুড়ে পুড়ল ৮ দোকান নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড় থেকে অস্ত্র-গুলিসহ ৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
Uncategorized
ভোটের হালচাল কক্সবাজার-২

ভোটের হালচাল কক্সবাজার-২

সেলিম উদ্দীন,কক্সবাজার :

মহেশখালি-কুতুবদিয়া আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি মরিয়া। ১৯৯১ সালের পর হতে জনভোটে কখনো নৌকার বিজয় ছিলনা এ আসনে। মহেশখালীতে আ’লীগে নতুনদের মনোনয়ণ দৌড় লক্ষ্যনীয়।

গোপনে মাঠে জাপা নড়েচড়ে বসেছে আসনটিতে প্রার্থী দাড় করাতে। এদিকে কুতুবদিয়ায় জামায়াত নীরবে শক্ত অবস্থানে থেকে কৌশলে নেতাকর্মীদের সংঘটিত করছে বলেও জানা যায়। কক্সবাজার ২ আসনে বার বার পার্থক্য গড়ে দেয় কুতুবদিয়ার ব্যালট বাক্স।

ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন, ভোটের মাঠে লড়তে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলো ও মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মাঝে। লক্ষ্যনীয় ভাবে চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। যার ধারাবাহিকতায় মনোনয়নের আশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলীয় একাধিক নেতা।

মহেশখালি কুতুবদিয়া এক আসন হলেও সংসদীয় আসনটিতে দ্বীপের সংখ্যা বেশি। কুতুবদিয়া উপজেলা ও মহেশখালি মিলে মুলত আসনটি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ভাবাপন্ন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়,এ আসনটি বরাবরেই বিএনপির জন্য সহজ হতে পারে। কিন্তু সরকার দলীয় কাউকে জনগণের ভোটে বিজয়ী হওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য।

কেননা এবারে বিনাভোটে বিজয়ী হওয়ার পথ রুদ্ধ। আসনটি বিএনপি ও ধানের শীঁষ অধ্যুষিত শক্তিশালী ঘাটি তা একবাক্যে স্বীকার করে সকলে।
ইতিমধ্যে আওয়ামী সমর্থক একাংশের কয়েকজন নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তবে বিএনপি, জাতীয় পার্টি হতেও জোরেসোরে মাঠে লবিং করে যাচ্ছে অনেকে।

তবে এমপি হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী দৌঁড়ে এখনো এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান এমপি আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক। তিনি বিনাভোটে নির্বাচিত হলেও এলাকায় উন্নয়নমূলক কিছু কাজ করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এক সময়ের ক্রাইমজোন খ্যাত মহেশখালি অনেকটা শীতল হতে শুরু করেছে তার শাসনামলে।

তবে তিনি এখনো স্থানীয় দলীয় নেতা কর্মী এবং দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে এক করতে পারেননি।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, সরকার দলীয় অনেক ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে তৃণমুলে তার সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে।

আর তার মুল কারণ খোঁজতে গিয়ে দেখা যায়, সকল জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমান সহাবস্থান রক্ষা করতে গিয়ে অনেকে বিষয়টি ভালো ভাবে নেয়নি। অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক, সদস্য নির্বাচনেও এসব জনপ্রতিনিধিদের অনেকটা চাপে রেখেছিলেন বলে ভেতরে অনেকে চাপা অসন্তোষজনক এমনটি ধারণা।

আগামী নির্বাচনে জনরায়ে ভোটের বিজয়ী হতে হবে জেনেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগসহ সকল সংগঠনের নেতা কর্মিদের এক করতে পারছেন না। ফলে বর্তমান চেয়ারম্যানদের মধ্যেও একটি নীরব বৈরীভাব রয়ে গেছে এমপি আশেকের বিরুদ্ধে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সমালোচিত হয়েছে মহেশখালী যুবলীগের কমিটি নিয়ে। যুবলীগের সভাপতি, সম্পাদক বিভিন্ন ইউনিট কমিটি নিয়ে যেভাবে সমালোচিত হয়েছে তা জেনেও এমপির নীরব ভুমিকা। আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় আওয়ামী সমর্থকদের।

মহেশখালির অনেক রাজনীতিবিজ্ঞ ও সুশীলজন মনে করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে দৌরাত্ব কমিয়ে আনতে না পারলে মনোনয়ন পেলেও সফল হতে বেগ পেতে হবে এমপি আশেক’কে।

এদিকে, এমপি আশেকের পাশপাশি নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এমন যাদের নাম মাঠে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড সিরাজুল মোস্তফা,জেলা আওয়ামী সদস্য ও বিশিষ্ঠ পরিবেশ বিজ্ঞানী ডঃ আনচারুল করিম, সমাজ বিজ্ঞানী ডঃ শাহাদত হোসেন,সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল হাসান, মোঃ ওসমান গণি, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির নেত্রী ইজ্ঞিনিয়ার ইসমত আরা ইসমু। এছাড়া বিএনপি হতে সাবেক এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ, কুতুবদিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা যায়।

এছাড়াও জাতীয় পার্টি হতে জেলা সভাপতি কবির আহমেদ সওদাগর ও জাপা নেতা মুহিবুল্লাহ মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক পৌর মেয়র সরোয়ার আজম ও নিজেকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা। কুতুবদিয়া হতে নির্বাচিত জামায়াতের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ ও ভিন্ন প্রতীকে বা জোটগত ভোটে প্রার্থী হিসাবে আগাম ইংগিত দিচ্ছে

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তাফা এর নাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসলেও মুলত তিনি প্রার্থী হচ্ছেন তা ঘোষণা করল গত সপ্তাহে। তাছাড়া বাকিরা ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এর মধ্যে বিভাজনের জন্য কোন একটি তৃতীয় পক্ষ ও কিছু মিডিয়াকে দিয়ে নির্বাচন করার কথা লিখাচ্ছেন বলেও শোনা যায়।

বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ডঃ আনসারুল করিমকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। গত উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ ইব্রাহিমের প্রচারাভিযানে জনগণ মাঠে দেখেছিলেন তাকে। এর বাইরে তিনি নির্বাচনী হাওয়ায় কখনো কোন দলীয় নেতা কর্মি কিংবা মাঠ পর্যায়ে কোন ধরনের সংপৃক্ত হতে দেখা যায়নি পুর্বে।

ছোট মহেশখালীতে সমাজ বিজ্ঞানী ড. শাহাদত হোসেন শুধু মাত্র কেন্দ্রীয় নেতা কর্মিদের মধ্যে লবিং নিয়ে ব্যস্ত মাঠ পর্যায়ে থাকেও দেখা যাচ্ছেনা।

এদিকে প্রবল গনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে সাবেক ছাত্রনেতা নামধারী ওসমান গণি ও। বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়, মাঠে সক্রিয় একাধিক আওয়ামী লীগ, বিএনপি আর জাতীয়পার্টির প্রার্থীরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকাতে এসব প্রচার করতে শুরু করেছে বলে প্রচার রয়েছে।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com