January 23, 2022, 3:30 am

শিরোনাম :
নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র পেলেন ৩৪ হাজার ৭৩ জন শিক্ষক মুন্সীগঞ্জ‌ে মিরকা‌দিম পৌরবাসীরা কি স্বাস্থ্য সম্মত গরুর মাংস খাচ্ছে? জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে নাসিকে ভোটযুদ্ধ আজ ॥ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ থেকে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ নেবে ভারত হটলাইনে চার মিনিটেই পর্চা-মৌজা ম্যাপের আবেদন শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবকে পিটিয়ে হত্যা নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ৬ লামার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে সাড়ে তিন হাজার কন্ঠে উচ্চারিত ‘ইনশাল্লাহ সব সম্ভব’ শত্রুতার আগুনে পুড়ে পুড়ল ৮ দোকান
Uncategorized
গ্রেনেড হামলার ১৪বছর, বিভীষিকাময় অধ্যায়

গ্রেনেড হামলার ১৪বছর, বিভীষিকাময় অধ্যায়

২০০৪ সালের আজকের এইদিনে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। তৎকালীন বিএনপি-জামাত শাসকগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রযন্ত্রের মদদে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলটিকে নেতৃত্বশূন্য করা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ওই হামলায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন নেতাকর্মী। আহত হন আরো তিন শতাধিক মানুষ।

১৪ বছর পার হলেও ওই বর্বরতার বিচার আজও শেষ করা যায়নি। ২০০৪ সালে তখন ক্ষমতায় বিএনপি-জামাত জোট। দুই যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা নিজামী-মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে চলছিল সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান তখন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান- তৎকালীন হাওয়া ভবনের কর্ণধার। যা পরিচিতি পায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকল্প-কেন্দ্র হিসেবে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেদিনের সেই ভয়াভহতা ও বর্বরতা বর্ণনারও অতীত। উপুর্যপরি শক্তিশালী গ্রেনেড হামলায় রক্তের বন্যা বইয়ে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের রাজপথে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন অনেকে। গ্রেনেডের আঘাতে নিহত-আহতদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে এক নারকীয় দৃশ্যের অবতারণা করে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার দেহরক্ষী প্রাণ হারান। আহত ব্যক্তিদের অনেকে এখনো শরীরে গ্রেনেডের স্পিল্টার নিয়ে অত্যন্ত কষ্টকর জীবন যাপন করছেন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতার জনসভায় এ রকম পৈশাচিক হামলার দায় নেওয়াতো দূরের কথা সরকারি দলের অনেক নেতা-নেত্রী হামলার জন্য উল্টো আওয়ামী লীগকেই দোষারোপ করেছিলেন। শুধু তাই নয় জোট সরকার পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়াও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছিল। তদন্তের নামে প্রহসন করে জজ মিয়া নাটকও সাজানো হয় এবং আড়াল করেছিল প্রকৃত অপরাধীদের। বিএনপি-জামায়ত জোট সরকার অপরাধীদের রক্ষায় যে তোড়জোড় শুরু করে তা সভ্য সমাজে চিন্তাও করা যায় না। গ্রেনেড হামলার মূল কুশীলবদের আড়াল করতে তারা তথাকথিত জজমিয়া নাটকেরও অবতারণা করে। এটিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বেশকিছু নিরপরাধ লোককে গ্রেনেড হামলার আসামি বানিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। দেশের ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হওয়া সত্ত্বেও জোট সরকারের কারসাজির কারণে দীর্ঘ সাত বছর এর বিচার থেমে থাকে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসে সিআইডি গ্রেনেড হামলার প্রকৃত অর্থে তদন্ত শুরু করে এবং ২০০৮ সালে জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও তাঁর ভাইসহ ২২ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাতে হামলার জন্য মূলত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ বা হুজিকে দায়ী করা হয়। তবে এই হামলার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান, রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ জোট সরকারের অনেকের জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এই মামলাটি গতি পেলেও বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি।

দুঃখজনক হচ্ছে, এই এগারো বছরেও এ রকম একটি নারকীয় হত্যামামলার কোনো সুরাহা হলো না। এই হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সরকারের আমলই যদি গ্রেনেড হামলার বিচার শেষ না হয় তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সেটি এক নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবেই থাকবে। তাই হামলাকারীদের মুখোশ উন্মোচন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য গ্রেনেড হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরী। গণতন্ত্র প্রেমি মানুষ এই ঘৃণ্য হত্যাকারীদের শেকড় যাতে সমাজ থেকে চিরতরে উচ্ছেদ হয় সেটিই দেখতে চায়।

শেয়ার করুন




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক আবেদিত
Design & Developed BY ThemesBazar.Com